Monday, June 20, 2016
ইতিহাসের কথা: সৌদি রাজপরিবার প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল আজিজ কালান্তরে দৃষ্টিপাত [Written by: আহমদুল ইসলাম চৌধুরী] [দৈনিক পূর্বকোণ] [Shared Post]
ইতিহাসের কথা: সৌদি রাজপরিবার প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল আজিজ কালান্তরে দৃষ্টিপাত
Written by: আহমদুল ইসলাম চৌধুরী [মে ৪, ২০১৫, দৈনিক পূর্বকোণ]
Source of Link: http://www.dainikpurbokone.net/23147/%e0%a6%87%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%8c%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf/সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল আজিজ প্রকাশ ইবনে সউদ বিন আবদুর রহমান বিন ফয়সাল, বিন তুর্কি বিন আবদুল্লাহ, বিন মুহাম্মদ বিন সউদ। মাতা-সারা বিনত আহমাদ আস-সাদায়রী। বাদশা আবদুল আজিজেরা নাজদের অধিবাসী বিধায় নাজদী বলা হয়। রিয়াদ কেন্দ্রিক নাজদের উপর তাদের পূর্ব পুরুষের আধিপত্য ছিল। তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবার। কিন্তু তুর্কি সুলতানগণের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপে আল্ রশিদ রিয়াদ দখল করেছিলেন। আবদুল আজিজের পিতা পরিবার পরিজন নিয়ে কাতারে চলে যান। সেখানে প্রায় ২ মাস অবস্থানের পর বাহরাইন আসেন। এখানেও কিছুদিন অবস্থান করে কুয়েতে এসে বসবাস করতে থাকেন। বাদশা আবদুল আজিজ ১৮৭৬ ইংরেজিতে রিয়াদেই জন্মগ্রহণ করেন। এ পরিবার ১৩০ বছর যাবৎ রিয়াদ কেন্দ্রিক নাজদের শাসক ছিলেন। ১৯০১ ইংরেজিতে এ সাহসী যুবক আবদুল আজিজ কুয়েত থেকে এসে তার পিতৃ পুরুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করতে রিয়াদের দিকে অগ্রসর হন। সঙ্গে ৬০ জন মতান্তরে ৪০ জন নিকট আত্মীয় বন্ধু-বান্ধবকে নেন। এতে ছিলেন তার একজন সৎ ভাই মুহাম্মদ এবং কয়েকজন চাচাতো ভাইও। তাদের পরিকল্পনা ছিল আল রশিদের সহযোগী উপজাতিদের আক্রমণ করা। এতে আবদুল আজিজ সাফল্য লাভ করেন। আবদুল আজিজ শরৎকালে সহযোদ্ধাদের নিয়ে মরুদ্যানে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নেন, পরিকল্পনা করেন। রমজান শুরু হলে সুযোগ বুঝে তিনি রিয়াদ আক্রমণের জন্য অগ্রসর হবেন। ১৯০২ ইংরেজির ১৫ জানুয়ারি রাত্রে ৪০ জন মতান্তরে ৬০ জন সহযোদ্ধা নিয়ে পাম গাছের সহায়তায় নগরীর ওয়াল তথা দেয়াল টপকিয়ে নগরীর ভেতর প্রবেশ করেন এবং আল রশিদি গভর্নর আফলানকে নিজ সুরক্ষিত দুর্গের সামনে হত্যা করেন। এতে করে ৩য় সৌদি রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়।
রিয়াদ দখলের সাথে সাথে এ রাজ পরিবারের সমর্থকরা আহ্বানে সাড়া দিয়ে একত্রিত হয়ে অস্ত্র ধারণ করে।
সুঠামদেহী কিছুক্ষণ, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, জনসমর্থন অর্জনে কৌশলী সক্ষম ব্যক্তি বাদশা আবদুল আজিজ। পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে তিনি এবং তার বাহিনী আল রশিদির নিকট থেকে নাজদের প্রায় অর্ধেক অংশ পুনরায় দখল করে নেন। ১৯০৪ ইংরেজিতে তুর্কি সুলতানের সৈন্যবাহিনী রশিদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। আল্ রশিদির স্থানীয় ক্ষুদ্র বাহিনীর সাথে তুর্কি সুলতানের বিশাল বাহিনী এগিয়ে এসে আক্রমণ করার সাথে সাথে বাদশা আবদুল আজিজের বাহিনী তছনছ হয়ে যায়। কৌশলী বাদশা আবদুল আজিজ তার বাহিনী নিয়ে পুনরায় দলবদ্ধ হন এবং রশিদি ও তুর্কি বাহিনীর সাথে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন। পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আবদুল আজিজ বাহিনী তুর্কি বাহিনীর অস্ত্র ও রসদ ইত্যাদি যাবতীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ফলে তুর্কি বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হন। বাদশা আবদুল আজিজের এ কৌশল কাজে আসে এবং ১৯১২ ইংরেজিতে পুনরায় রিয়াদ দখল করে নেন। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নাজদীর ধর্মীয় অনুসারীদের সহায়তা নিয়ে সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করতে থাকেন। স্থানীয় বেদুঈনরা যাতে সুসংগঠিত হয়ে বাদশা আবদুল আজিজের প্রতিপক্ষ হতে না পারে তার নানান কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। যেমন-উপজাতীয় সংগঠনগুলো ভেঙ্গে দিয়ে বাদশা আবদুল আজিজের প্রতি আনুগত্য নিতে লাগলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ধূর্ত ব্রিটিশরা বাদশা আবদুল আজিজের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ১৯১৫ ইংরেজির ডিসেম্বরে ব্রিটিশরা বাদশা আবদুল আজিজের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হতে ২য় চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে তুর্কি সুলতানকে হটিয়ে আরব অঞ্চলে ব্রিটিশ আধিপত্যের পথ সুগম হতে থাকে। অপরদিকে, বাদশা আবদুল আজিজও ব্রিটিশের সামরিক যোদ্ধাস্ত্রের সরবরাহ পেয়ে উৎফুল্ল মনে নাজ্দ পেরিয়ে ছোট ছোট আরব অঞ্চলগুলো দখল করতে থাকেন। এতে যোগ্য সাহসী ৩য় পুত্র ফয়সাল যৌবনের প্রারম্ভ থেকে পিতাকে সহযোগিতা করতে থাকে। তাদের প্রতিষ্ঠিত সামরিক বাহিনী নিয়ে পিতার নির্দেশে ফয়সাল নাজদের চতুষ্পার্শ্বে বিভিন্ন অঞ্চল জয় করতে বড় ধরনের বেগ পেতে হয়নি। ব্রিটিশের সরবরাহের ভেতর যোদ্ধাস্ত্র গোলা বারুদ বাদশা আবদুল আজিজ বাহিনীর কাছে খুবই প্রয়োজন ছিল। ব্রিটিশরা এ সুযোগে পবিত্র মক্কায় তুর্কি প্রতিনিধি শরীফ হোসাইনের পুত্র আবদুল্লাহ ও ফয়সালকে ব্যবহার করে দামেস্ক ও ইরাকে ক্ষমতায় বসান এবং ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বীজ বপন করতে থাকেন।
পবিত্র মক্কার গভর্নর শরীফ হোসাইন এবং রিয়াদের বাদশা আবদুল আজিজ উভয়ই ব্রিটিশের ঘনিষ্ঠ জন। কিন্তু কৌশলগত কারণে ব্রিটিশরা শরীফ হোসাইনের কাছে অসহায় দেখিয়ে বাদশা আবদুল আজিজের পক্ষ অবলম্বন করে। অপরদিকে শরীফ হোসাইনও তার চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী বাদশা আবদুল আজিজের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে পারেনি তার উগ্রবাদীতার কারণে। ফলে বাদশা ফয়সাল তার বিশাল বাহিনী নিয়ে ১৯২৪ ইংরেজিতে পবিত্র মক্কা দখল করতে বড় ধরনের বেগ পেতে হয়নি। এদিকে ধূর্ত ব্রিটিশরা শরীফ হোসাইনকে পালাতে সহায়তা করে। শরীফ হোসাইন তার অর্জিত অর্থ সম্পদ নিয়ে জেদ্দা পৌঁছে। সেখান থেকে ব্রিটিশ সহায়তায় জাহাজে করে সাগর পথে সাইপ্রাসে চলে যান।
বাদশা আবদুল আজিজের পক্ষে তার সাহসী কৌশলী পুত্র বাদশা ফয়সল পবিত্র মক্কা দখলের মধ্য দিয়ে ৭০০ বছর ব্যাপী স্থানীয় আরবি শাসন তথা হাসমী শাসনের অবসান হয়। পরবর্তী ২ বছরের ভেতর জেদ্দা, পবিত্র মদিনাসহ হেজাজের সমস্ত অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তথা গোত্রীয় প্রধানগণ বাদশা আবদুল আজিজকে মেনে নেয়।
এর পূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্র রাজ্য সম্প্রসারণের পদক্ষেপ হিসেবে ১৯২১ ইংরেজিতে জাবাল শামমার এবং তার অধিনস্থ এলাকা সমূহ আর ১৯২০ ইংরেজিতে আছির দখল করেন।
একই সালে নাজদে আল রশিদির অবস্থানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১৯২২ ইংরেজির মধ্যে আল রশিদিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়। ফলে সৌদি তথা ইবনে সউদের রাজ্যের আয়তন দ্বিগুণের মত বৃদ্ধি পায়। খাইল দখলের পর ইবনে সউদের বাহিনী আল্-জাউফ দখল করে নেয়। অতঃপর ইকাব বিন মুহাইয়ার অঞ্চলও দখল করে নেয়। তিনি ছিলেন এক উপজাতীয় প্রধান।
এক কথায় ইবনে সউদের সুসংগঠিত এবং ব্রিটিশ অস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনীর কাছে জজিরাতুল আরবের ছোট ছোট অঞ্চলগুলির প্রধান বা তাদের বাহিনীর পক্ষে পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দ্রুত রাজ্য সম্প্রসারণে ছোট খাট সংঘাত বাদে বড় ধরনের যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছিল না ইবনে সউদ বাহিনী।
[Collected]
Subscribe to:
Comments (Atom)



